
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এবার দীর্ঘদিনের মিত্র জার্মানির ওপর চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জার্মানিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাসংখ্যা বড় আকারে কমিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন জার্মানিতে সেনা কমানোর বিষয়টি নিয়ে নিবিড়ভাবে ‘পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা’ করছে। এ বিষয়ে খুব দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানি নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে। চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্পের এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্পের মতে, মিত্র দেশ হয়েও জার্মানি ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়িয়ে বরং সমালোচনা করছে।
এছাড়া ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে জার্মানি এবং ন্যাটোর অন্যান্য মিত্রদেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানের নৌ-অবরোধের মুখে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করতে মিত্র দেশগুলো নৌবাহিনী মোতায়েন না করায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করা মার্কিন সেনাদের জন্য জার্মানি অন্যতম প্রধান এবং বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যদি ট্রাম্প তার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তা ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ন্যাটোর স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পুতিন-ট্রাম্প ফোনালাপ: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দেড় ঘণ্টা স্থায়ী ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি: ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে কোনো অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতি: লেবাননের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তেলের বাজার অস্থির: ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং হরমুজ প্রণালির সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জল কতদূর গড়ায় এবং জার্মানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।